শ্রীশ্রী সমাধি মন্দির, চৌমুহনী, নোয়াখালী

 

শ্রীশ্রী সমাধি মন্দির, চৌমুহনী, নোয়াখালী

শ্রীশ্রী সমাধি মন্দির, চৌমুহনী, নোয়াখালী

যে স্থানে এই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে তাহা চৌমুহনী বাজারের দক্ষিণ দিকের মাঠের  অংশ বিশেষ, নোয়াখালী জিলার চারিদিক থেকে খালগুলি আসিয়া এখানে মিলিত হইয়াছে বলিয়া এই স্থানকে চৌমুহনী বলে।

শ্রীশ্রীঠাকুর নরলীলার শেষ পর্যায়ে এসে ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন শ্রীঁউপেন্দ্র সাহার নিকট কিছুদিনের জন্য একটি শান্ত, নিরিবিলি জায়গায় থাকার জন্য তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উঁপেন্দ্রবাবু ঠাকুরের নিকট জানালেন যে, চৌমুহনীতে তার নিজস্ব একটি বাংলো অনেকদিন ধরে খালি পড়ে আছে এবং ঠাকুর যদি ঐ বাংলোতে থাকার সন্মতি দেন তাহলে তিনি থাকার জন্য সবরকম আয়োজন করতে পারেন।

শ্রীশ্রীঠাকুরের সম্মতি সাপেক্ষে উঁপেন্দ্রবাবু তার ভাই নঁরেনবাবুকে অতিসত্তর প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে বলেন এবং বাংলোটির প্রয়োজনীয় কিছুটা সংস্কার করে তিন-চার দিনের মধ্যে বাসপোযোগী করে তোলায় উঁপেন্দ্রবাবু ঠাকুরকে নিয়ে সেই বাংলোবাড়িতে উপস্থিত হন। শ্রীদেহ ত্যাগের আগ পর্যন্ত একটানা প্রায় সাত (৭) বছর ১৯৪৯ সালের ১ লা মে রবিবার পূণ্য অক্ষয় তৃতীয়া পর্যন্ত ঠাকুর ওই বাংলোতেই বাস করেছেন। যদিও খুব স্বল্প সময়ের জন্য মাঝে মধ্যে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভক্তদের কাছে যেতেন। অবশেষে পূণ্য অক্ষয় তৃতীয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে ঠাকুর তাঁর ভক্তদের শোকসাগরে ভাসিয়ে শ্রীদেহ ত্যাগ করেন। এরপর ঠাকুর বাংলোর যে ঘরে বাস করতেন সেখানেই তাঁরই নির্দেশ এবং উপস্থিত ভক্তদের সার্বিক অনুমোদনক্রমে তাঁর দেহ সমাধিস্থ করা হয়। পরে কুমিল্লা ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের ইজ্ঞিনিয়ারের প্ল্যান পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে তৈরী করা হয় সুন্দর সুরম্য একটি সমাধি মন্দির।

বাংলোতে ঠাকুর খুব সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে যেতেন, বারান্দায় কিছুক্ষণ ধীরেসুস্থে হাঁটার পর, তিনি খবর কাগজ পড়তে বসতেন। অধিকাংশ সময়ই বাংলোর প্রধান ফটক বন্ধ থাকত, জীবনের এই সময়ে ঠাকুর ভক্তদের দর্শন দিতে খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করতেন না। তারপরেও ঠাকুর দর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের মনস্কামনা পূর্ণ করার জন্য এর প্রধান ফটকটি কখনো অল্প সময়ের জন্য খোলা রাখা হতো। এই সময় কোনো ভক্ত উপদেশের জন্য আসলেও  ঠাকুর তাঁর ভক্তদের কখনোই নিরাশ করতেন না। প্রচন্ড অসুস্থতার মাঝেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য তিনি তাঁর উপদেশ; পরামর্শ প্রদান করা অব্যাহত রাখতেন। ঊনার উপদেশের ভাষা অধিকাংশই ছিল খুব কঠিন, তারপরেও প্রচন্ড এক মায়ার টানে তিনি ভক্তদের তাঁর নিকটেই বেঁধে রাখতেন। ভক্তরা প্রচন্ড এক মায়ার টানে তাঁর শ্রীউপদেশগুলি শ্রবণ করতেন, কারো কারো চোখ দিয়ে দরদর করে বয়ে চলত প্রেমাশ্রু।

চৌমুহনী, নোয়াখালী সমাধি মন্দির এর মানচিত্র নিম্নে দেওয়া হলো –